শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
আব্দুস সালাম, টেকনাফ:
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে দুই সহোদর ও সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে পার্শ্ববর্তী বসত ভিটের জবর দখল করতে অপচেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে হামলা চালিয়ে নারী সহ ৩ জনকে আহত করা হয়। এতে ক্ষান্ত না হয়ে প্রাণ নাশেরও হুমকি দেয় জবরদখলকারীরা।
গত ২০ এপ্রিল বিকালে মুঠোফোনে সন্ত্রাসী কায়দায় লাশ ফেলে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়।
জানা যায়,উপজেলার হোয়াইক্যং মাঝের পাড়ার মোক্তার আহমদের দুই ছেলে রাসেল উদ্দিন ও বেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপকর্ম করে আসছে। রাসেল উদ্দিন বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকুরি করছে। বেশ কিছুদিন রাসেল উদ্দিন স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তার ভাই বেলাল উদ্দিনকে একই এনজিওতে চাকুরি দেয়।
রাসেল উদ্দিন শুধু তার ভাই নয়, উৎকোচের মাধ্যমে তার নিজ এনজিও এবং পরিচিত এনজিওতে বেশ কিছু লোক চাকুরি পাইয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চাকুরিতে থাকা অবস্থায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মভাবে একটি সিএনজি (অটোরক্সিা) কিনে ওই এনজিওতে বছর খানেক ভাড়া দেয়া হয়। যার গাড়ি নম্বর কক্সবাজার থ ১১-৮৪০৪।
সম্প্রতি বেপরোয়া হয়ে উঠেন রাসেল উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে প্রতিবেশিদের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠে। গত ১৭ এপ্রিল বিকালে প্রতিপক্ষের পৈত্রিক ও শতবছরের ভোগদখলীয় সম্পত্তি দখল করতে যায় মোক্তার আহম্মদ ও তার ছেলে বেলাল,মামুন দিলদার আহমদের ছেলে ইলিয়াছ ও মান্নান। এতে উভয় পক্ষ আহত হয়।
সেই সাথে হামলায় বাধাদানকারী (দখলীয় পক্ষ) মৃত সাদেকুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান (৬০) তার কন্যা রুবিনা আক্তার (৩৬) মৃত মৌ. আব্দুর রহমানের ছেলে আনিছুর রহমান (৩৫)। তিনি একজন আওয়ামী লীগ নেতা।
হামলাকারী মান্নান একজন মাদক ব্যবসায়ী। তিন বছর আগে র্যাব অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশী বিয়ার সহ তাকে আটক করে। এসব বিয়ার দুই দফা অভিযান চালিয়ে দোকান ও বাড়িতে থেকে উদ্ধার করেছিল র্যাব। দীর্ঘ বছর কারাভোগ শেষে জামিনে রয়েছেন তিনি। তার দোকান ও বাড়ি থেকে এসব বিয়ার উদ্ধার করেছিল র্যাব। স্থানীয়দের অভিযোগ ইলিয়াছ গংরা বাড়িতে বসে এখনো মাদক ব্যবসায় বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু তা নয়, জবরদখল কারীদের বাধা দেওয়াতে জায়াগার মালিক হাবিবুর রহমানের ছেলে আব্বাস উদ্দিনের লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন রাসেল উদ্দিন।
ভিডিওতে শোনা যায়, জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়া হয়। অন্যথায় কেটে লাশকে চার টুকরো করার হুমকি দেন। সেই সাথে টাকার ক্ষমতা দেখান। এসব কথা আঞ্চলিক (স্থানীয়) ভাষায় বলা হয়। এতে নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন আব্বাসের পুরো পরিবার।
আব্বাস উদ্দিন, রাসেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি এক সময় এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয়। বর্তমান সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে তিনি এলাকায় চলে আসেন এবং এনজিওতে চাকুরি নেন। বর্তমানে তার ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। এসব ভিন্নতা জঙ্গি বিরোধী অভিযানের পর থেকে হয়। রোহিঙ্গা আসার পর এনজিতে ঢুকে রাসেলের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি আশ্রয় আরো বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে সবকিছুর হুকুমদাতা রাসেল উদ্দিন।
হামলায় আহত আনিছ বলেন, মোক্তার ও বেলাল গংরা জবরদখল করতে গিয়ে হামলা চালায়। এতে আমি সমঝোতা বা উত্তেজনা প্রশমন করতে গেলে আমাকেও হামলা করে আহত করেন সন্ত্রাসীরা। টাকার প্রভাব খাটিয়ে উল্টো আমাদের বিরোদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে ভূমি দস্যুর অভিযোগে অভিযুক্ত বেলাল উদ্দিন সন্ত্রাসী স্টাইলে জবরদখল করতে থাকে। এর আগেও মৌলভী আব্দু রহমান দ¤পতির বসত ভিটে জবরদখল করার অপচেষ্টা চালায়। এই বেলাল দুই বছর পূর্বে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেয়েকে কোচিং করার সময় জোরপূর্বক তুলে ধর্ম ত্যাগ করিয়ে বিয়েতে বসেন। তখন ওই মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিলো।
এ ব্যাপারে রাসেলের উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে অডিওর বিষয়টি সদুত্তর দিতে পারেননি। সেই সাথে তাদেরকেও হামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি এবং অন্যান্য আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ীর এসআই মুজিবুর রহমান বলেন, বসতভিটে জবর দখল করতে গিয়ে হামলা ও স্বর্ণ লুটপাট করেছে মর্মে একটি অভিযোগ দায়ের করেন আব্বাস উদ্দিন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ভয়েস/আআ